বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর অলিগলিতে কোরবানির পশুর হাট

রাজধানীর অলিগলিতে কোরবানির পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আর মাত্র দুদিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীজুড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। গতকাল রবিবার ছিল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শেষ কর্মদিবস। তবে অফিস ছুটির আগেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়ে যায় পশুর হাটের কার্যক্রম। সড়কের পাশে, ফুটপাতে, এমনকি আবাসিক এলাকার সরু গলিতেও ট্রাকভর্তি গরু-ছাগল নামাতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের। ফলে অফিসফেরত মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৩টি অস্থায়ী পশুর হাট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন নির্ধারিত এলাকায় হাট বসানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা অনেকাংশেই উপেক্ষিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত হাটের বাইরে আশপাশের রাস্তা, খালি প্লট, ফুটপাত ও আবাসিক এলাকার ভেতরেও গড়ে উঠেছে অননুমোদিত পশুর বাজার।

রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, কামরাঙ্গীরচর ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই অলিগলি দখল করে পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। কোথাও রাস্তার একাংশ বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে ঘিরে অস্থায়ী হাট তৈরি করা হয়েছে, আবার কোথাও বাসাবাড়ির সামনে সরাসরি পশু নামিয়ে বিক্রি চলছে। এতে একদিকে যেমন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার অস্থায়ী হাটের ইজারাদার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নির্দিষ্ট সীমানা আছে। কিন্তু বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা অনেক সময় রাস্তায় পশু নামিয়ে ফেলছেন। তাদের সরাতে গেলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকে।”

যদিও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্ধারিত এলাকার বাইরে হাট বসানোর সুযোগ নেই। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, “ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কেউ হাট পরিচালনা করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা জাফর আহমেদ বলেন, “আগে কখনও এতটা এলোমেলোভাবে পশুর হাট বসতে দেখিনি। পুরো এলাকা জুড়েই গরু-ছাগল নামানো হয়েছে।”

সরেজমিনে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোড, ইকবাল রোড ও টিক্কাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অলিগলিতেই বসেছে ছোট ছোট পশুর বাজার। অনেক স্থানে নির্দিষ্ট ইজারাদার না থাকলেও হাসিল আদায় চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেই এসব অননুমোদিত হাট পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের অভিযানও কার্যকর হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর কোরবানির ঈদ এলেই রাজধানীতে একই চিত্র দেখা যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়। নগরবাসীর দাবি, নির্ধারিত পশুর হাটে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং অননুমোদিত হাটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com